কোহলিদের কাছ থেকে বিশাল জয় তুলে নিয়ে সাকিবরা

খুবই সহজ ভাবে খেলে যাচ্ছিল KKR ।কিন্তুু লক্ষ্য তাড়ার শেষর দিকে তাদের রানের চাকা থেমে যাওয়ায় এবং উইকেটের পতন ঘটে খেলার মজাটাই শেয হয়ে যায় সাকিবদের।কিন্তুু শেষে জয় মিললো সাকিবদের RCB কে হারিয়ে IPL এর ফাইনালের অাশা টিকিয়ে রাখলো KKR

সোমবার রাত ৮ টাই শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এলিমিনেটর ম্যাচে মাএ ২ বল বাকি রেখে বিরাট কোহলিদের ৪ উইকেটে হারিয়েছে সাকিবরা

টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে বেঙ্গালুরু। জবাবে কলকাতা ১৯.২ ওভারে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে।

বাংলাদেশি তারকা অলরাউন্ডার সাকিব উইকেট না পেলেও করেন দেখার মতো বোলিং। চার ওভারে তিনি দেন ২৪ রান। পরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ বলে ৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন তিনি।

চাপে পড়ে যাওয়া কলকাতার শেষ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৭ রান। RCB এর ড্যান ক্রিস্টিয়ানের প্রথম ডেলিভারিতেই স্কুপ করে চার মারেন সাকিব। তাতে মরগ্যানদের জন্য সমীকরণ হয়ে পড়ে সহজ। ওই ওভারের চতুর্থ বলে KKR জয়সূচক রানটিও আসে বাঁহাতি সাকিবের ব্যাট থেকে।

RCB এর দুই ওপেনার ছাড়া বাকি কেউ ২০ রানও করতে পারেননি। অধিনায়ক কোহলির ব্যাট থেকে আসে ৩৩ বলে সর্বোচ্চ ৩৯ রান। পাডিক্কাল করেন ১৮ বলে ২১। শুরুর ভিত কাজে লাগিয়ে পরে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, এবি ডি ভিলিয়ার্সরা কাঙ্ক্ষিত ঝড় তুলতে ব্যর্থ হন। কলকাতার ক্যারিবিয়ান তারকা সুনীল নারিন স্পিন জাদুতে ২১ রানে নেন ৪ উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু পাওয়া KKR এক পর্যায়ে হাতে ৭ উইকেট নিয়ে আট ওভারে দরকার ছিল ৩৮ রান। কিন্তু পরের সাত ওভারে কেবল ৩১ রান তুলতে তারা হারায় ৩ উইকেট। তবে অধিনায়ক মরগ্যান ও সাকিব দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।

কলকাতার হয়ে ১৮ বলে সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন ওপেনার শুবমান গিল। আরেক ওপেনার আইয়ার ২৬ করতে খেলেন ৩০ বল। বোলিংয়ের পর ব্যাটিংয়েও নজর কাড়েন নারিন। পাঁচে নেমে ১৫ বলে ২৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে এবং জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন সাকিবের KKR.

Farhan Rony news:ipl

সাকিবদের কাছে বিশাল হারে বিদায় মুস্তাফিজের রাজস্থানের😪😪😪

উইকেটের ধরণের কারণে শারজাহর মাঠে এবার খুব বড় রান করতে পারছিল না কোন দলই।  মোস্তাফিজুর রহমানদের সাদামাটা দিনে সেখানেই দারুণ ব্যাট করে বিশাল এক পুঁজি পেয়ে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। চ্যালেঞ্জিং রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। পরে দুই পেসার শিভম মাভি আর লুকি ফার্গুসেনের তোপে বিধ্বস্ত হয়ে যায় রাজস্থানে ইনিংস।

Farhan Rony News:ipl 2021

বৃহস্পতিবার আইপিএলের প্লে অফের যাওয়ার সমীকরণের ম্যাচে রাজস্থান রয়্যালসকে ৮৬  রানের বিশাল হারিয়েছে কলকাতা। এই হারে এবারের আইপিএল মিশন শেষ হয়ে গেছে মোস্তাফিজের দলের। 

আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭১ রান করে কলকাতা। জবাবে মাত্র ৮৬ রানে গুটিয়ে যায় সঞ্জু স্যামসনরা।

এই ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলেন বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব-মোস্তাফিজ। দুজনের দিনটি কেটেছে দুরকম। বল হাতে ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে উইকেট শূন্য ছিলেন মোস্তাফিজ। মাত্র ১ ওভার বল করার সুযোগ পেয়েই ১ রান দিয়ে সাকিব নেন ১ উইকেট।  এই ম্যাচ দিয়েই অবশ্য শেষ হচ্ছে তাদের আইপিএল মিশন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে এরপরই তারা যোগ দেবেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে।

একপেশে এই ম্যাচে কলকতার বোলিং হিরো মিডিয়াম পেসার মাভি। ৩.১ ওভার করে ২১ রান দিয়ে তিনি পেয়েছেন ৪ উইকেট। আরেক পেসার ফার্গুসেন ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। লেগ স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।

১৭২ রান তাড়ায় নেমে সাকিবের প্রথম ওভারেই ফিরে যান যশভি জয়সওয়াল। দ্রুত মেরে রান বের করার মনোভাব নিয়ে নামা এই ব্যাটসম্যান ৩ বল খেলেই বোল্ড হয়ে যান। ওই ওভারে সাকিব দেন মাত্র ১ রান।

পরের ওভারের প্রথম বলেই মাভি তুলে নেন রাজস্থান অধিনায়ক স্যামসনকে। এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়ে যায় চতুর্থ ওভারে।

কিউই পেসার ফার্গুসেন এসে পর পর লিয়াম লিভিংস্টোন আর অঞ্জু রাওয়াতকে তুলে নেন। ১৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে পড়ে রাজস্থান।

শিভম দুভে-গ্লেন ফিলিপসরা এই সংকট থেকে আর দলকে উত্তরণ করাতে পারেননি।  ২০ বলে ১৮ করা দুভে বোল্ড হন মাভির বলে। ধুঁকতে থাকা ফিলিপস ১২ বলে ৮ করে একইভাবে টানেন সমাপ্তি। ব্যর্থতার মৌসুমে ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ ছিলেন ক্রিস মরিস। রাহুল তেওয়াতিয়া (৩৬ বলে ৪৪ রান) ঝড় তুলে হারের ব্যবধান কমিয়ে দলের আক্ষেপই কেবল বাড়িয়েছেন।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুভমান গিল-ভেঙ্কেটেশ আইয়ার আনেন আরেকটি দারুণ শুরু। দুজনের ওপেনিং জুটিতেই শক্ত ভিত পেয়ে যায় কলকাতা। উইকেটে মন্থরতার কারণে অবশ্য তেমন আগ্রাসী হতে পারছিলেন না। তবে থিতু হতে জুতসই গতি আনতে সমস্যা হয়নি।

একাদশ ওভারে গিয়ে ভাঙ্গে ৭৯ রানের জুটি। রাহুল তেওয়াতিয়ার বলে বোল্ড হয়ে যান আইয়ার। আগ্রাসী মেজাজে ৫ বলে ১২ করে নিতিশ রানা ফেরার পর গিল চালিয়ে যান।

৪৪ বলে ৫৬ করে ক্রিস মরিসের শিকার হন তিনি। কলকাতার রান এরপর চড়া হয় রাহুল ত্রিপাঠি, দীনেশ কার্তিক ও ওয়েন মরগ্যানের ছোট তিন ইনিংসে। ত্রিপাঠি ১৪ বলে ২১, কার্তিক ১১ বলে ১৪ আর ১১ বলে ১৩ করেন মরগ্যান।

রাজস্থানেরর বোলাররাও করেন হতাশ। বেশ কিছু আলগা বল দিয়ে ব্যাটসম্যানদের মেরে খেলার সুযোগ করে দেন তারা।